বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
টরকী বন্দরের ডাকাতির নিউজ করায় সাংবাদিকের উপর হামলা আশুলিয়া থানা যুবলীগের শীর্ষ পদ চায় কে এই রাজু দেওয়ান? রক্তাক্ত ১৫ আগষ্টে ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান ময়মনসিংহে রওশন এরশাদের পক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাপার জাতীয় শোক দিবস পালন।। বানারীপাড়ায় জাতীয় শোক দিবস পালন ও হত দরিদ্রদের মাঝে চেক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাথে বাবুলের সাংগঠনিক বিষয়ে পরামর্শ ও আলোচনা বঙ্গমাতার জন্মদিনে বানারীপাড়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ ময়মনসিংহের অষ্টধার ইউনিয়নে গণটিকার উদ্ভোধন করলেন চেয়ারম্যান তারেক হাসান মুক্তা।। তারাকান্দায় এডিসি ও ইউএনও’র গণটিকা কার্যক্রম পরিদর্শন।। সিরাজদিখানে গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
বাহুবল কিশলয় হাইস্কুলে অধ্যক্ষ জামালের দূর্নীতি ধামাচাপার চেষ্টা

বাহুবল কিশলয় হাইস্কুলে অধ্যক্ষ জামালের দূর্নীতি ধামাচাপার চেষ্টা

মশিউর রহমান।।
বাহুবল ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি।। বাহুবল উপজেলা সদরে অবস্থিত কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুলে মোঃ জামাল আহমেদ সাকিব অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে তাকে অবৈধভাবে ব্যক্তি বিশেষের অনৈতিক হস্তক্ষেপে নিয়োগ দেয়া হয় অধ্যক্ষ পদে। তিনি এখনে যোগদানের পর পরই নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে এবং ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির ৩ সদস্য। বাহুবল উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বেসরকারিভাবে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুল। শুরুতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ২০১৩ সালে অধ্যক্ষ নিয়োগের পর হতে একের পর এক ঘটতে থাকে অপ্রীতিকর ঘটনা। যার উপলক্ষ বা নেপথ্য খলনায়ক হলেন গুনধর অধ্যক্ষ জামাল আহমেদ সাকিব।

বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা ও অভিভাবক সহ বিভিন্ন সুধীজন হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আয়- ব্যয়ের হিসাবে গড়মিল থাকা সত্বেও বরাবরের মতো ছাড় পেয়ে যান জামাল আহমেদ সাকিব। শিক্ষার্থী নিপিড়ন সহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত বিতর্কিত এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠেন তার আশীর্বাদদাতা হিসাবে আধাজল খেয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন উপজেলা প্রশাসনের চিহ্নিত কয়েক কর্মকর্তা। যারা দেড়- দুই যুগ ধরে বাহুবলে কর্মরত আছেন অদৃশ্য শক্তির বলে। আর মূলত এসব কর্মরতদের কারণেই বাধাগ্রস্থ হচ্ছে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সহ
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।

সূত্র জানায়, তারা জামাল সাকিব ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের সর্ব ক্ষেত্রে বিস্তার করেছে আধিপত্য। ফলে যেকোনো তদন্ত বা অডিট কার্যক্রম প্রভাবিত হয় তাদের মর্জিমাফিক। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুলের অধ্যক্ষ জামাল আহমেদ সাকিব এর অনিয়ম-দুর্নীতি ও শিক্ষার্থী নিযার্তনের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও। ওই তদন্ত কমিটি আজও কোন প্রতিবেদন দিতে পারেনি রহস্যজনক কারণে। পরবর্তীতে বর্তমান ইউএনও স্নিগ্ধা তালুকদার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমানকে প্রধান করে গঠন করেন অডিট কমিটি।

এখানে মজার বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের মধ্যেও ওই কমিটি প্রতিবেদন দেয়নি। কিন্তু উক্ত কমিটির প্রতিবেদন না পেয়েও ইউএনও যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে নেন এবং তার অধীনস্থ দুই কর্মচারীকে দিয়ে অডিট করান। ওই অডিটেও ব্যাপক অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার প্রমানাদির তথ্য উঠে আসে। এরপর ১৬ অক্টোবর সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে অধ্যক্ষ জামাল আহমেদকে শোকজ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা তালুকদার। তিনি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে (২৭ অক্টোবর) এর জবাব দানের জন্য অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত অডিট কমিটির প্রধান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমান বলেন, আমি এখনও প্রতিবেদনই দাখিল করিনি তাহলে কিভাবে শোকজ করা হল তা আমার বোধগম্য নয়। তবে তিনি বলেন, হয়তো ইউএনও স্যার তার এখতিয়ারের বলে শোকজ করতে পারেন। অডিট কমিটি গঠনের ৮/৯ মাস অতিবাহিত হলেও দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব কেন জানতে চাইলে সমবায় কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও অফিস থেকে অডিটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে না দেওয়ায় কমিটি কোন কুলকিনারা পাচ্ছেন না।

অধ্যক্ষের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব পান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও তিন সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটির প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমান। অন্যরা হলেন তারই অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম ও সদ্য বিদায়ী উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আল মামুন। আর এ কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার।
সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমান জানান, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হওয়ায় মাস দুয়েক আগে তার কাছ থেকে খাতাপত্র নিয়ে নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরে তিনি জানতে পারেন, উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর কনক দেব মিটু ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুজন চৌধুরীকে দিয়ে ইউএনও নিজ উদ্যোগে তদন্ত করে অনেক অনিয়ম দূর্নীতির তথ্য পান। আর এ প্রেক্ষিতেই প্রধান শিক্ষক জামাল আহমেদকে শোকজ করা হয়। এরপর থেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন জামাল সাকিব।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD