সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
টরকী বন্দরের ডাকাতির নিউজ করায় সাংবাদিকের উপর হামলা আশুলিয়া থানা যুবলীগের শীর্ষ পদ চায় কে এই রাজু দেওয়ান? রক্তাক্ত ১৫ আগষ্টে ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান ময়মনসিংহে রওশন এরশাদের পক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাপার জাতীয় শোক দিবস পালন।। বানারীপাড়ায় জাতীয় শোক দিবস পালন ও হত দরিদ্রদের মাঝে চেক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাথে বাবুলের সাংগঠনিক বিষয়ে পরামর্শ ও আলোচনা বঙ্গমাতার জন্মদিনে বানারীপাড়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ ময়মনসিংহের অষ্টধার ইউনিয়নে গণটিকার উদ্ভোধন করলেন চেয়ারম্যান তারেক হাসান মুক্তা।। তারাকান্দায় এডিসি ও ইউএনও’র গণটিকা কার্যক্রম পরিদর্শন।। সিরাজদিখানে গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
গ্যাসের অবৈধ সংযোগের বাড়ছে অগ্নিকান্ডে- দগ্ধ ও মৃত্যুর সংখ্যা

গ্যাসের অবৈধ সংযোগের বাড়ছে অগ্নিকান্ডে- দগ্ধ ও মৃত্যুর সংখ্যা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের বাসন, টঙ্গী, গাজীপরের সীমান্ত এলাকা আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসর অবৈধ সংযোগের চা ল্য তথ্য-বৈধ সংযোগের সাথে অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি, এর কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে, সেই সাথে বাড়ছে অগ্নিকা-ে দগ্ধ ও মৃত্যুর ঘটনা।
জানা গেছে, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সাভার ও আশুলিয়া থানায় পৃথক ২৮টি মামলা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ২৮টি মামলার আসামীদের মধ্যে এক দুইজন গ্রেফতার হলেও বাকী আসামীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদেরকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। কিছুদিন আগে সাভারের হেমায়েতপুরের মোল্লা পাড়ায় বাসা বাড়িতে তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদ ও সাইফুল ইসলাম নামের ২জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দগ্ধ হাবিব নামের আরও একজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তারও মৃত্যু হয়। জানা যায়, নিহত ও দগ্ধরা সবাই টাইলস মিস্ত্রি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ বাচ্চু মিয়া জানান, ঘটনার দিন বুধবার দিবাগত ভোর রাতে তারা ৩জন গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হন, নিহত ফরিদ হোসেনের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও সাইফুল ইসলামের বাড়ি কুষ্টিয়া।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ট্যানানী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সাভারের হেমায়েতপুরের মোল্লা পাড়ার মাসুদ হোসেনের মালিকানাধীন বাড়ির ২য় তলার নীচ তলায় ৩জন টাইলস মিস্ত্রি ভাড়া থাকতেন। গত বুধবার দিবাগত ভোর রাতে তাদের ভাড়া বাসায় নিজ কক্ষে গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন ধরে দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদেরকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটি ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির মালিক পলাতক রয়েছে। এ ছাড়া ওই বাড়ির গ্যাস লাইন অবৈধ ছিলো বলে পুলিশ জানায়। এর আগেও সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আহত এবং নিহতের অনেক ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রায় লক্ষাধিক হলেও রহস্যজনক ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভুমিকায়, অনেকেরই অভিমত সরিষার মধ্যে ভূতের বসবাস। ধারাবাহিকভাবে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিচ্ছে কিছু দালাল, এই চক্রের মূল হোতা আশুলিয়ার ইয়ারপুরের জমির আলীর ছেলে সিরাজ ও হানিফ, জলিল, জামগড়ার ফারুক মোল্øা, ইয়ারপুরের রাজন ভুঁইয়া, তাহের মৃধা, জহির মোল্লা, হাজী মনির, রাসেল, মুসলিম খাঁ, শরিফ, ফরিদ, নুরনবী ও টঙ্গাবাড়ির সুমনসহ ২৫-৩০ জন দালাল ও তাদের শতাধিক সহযোগী, এই দালালদের গ্যাস বাণিজ্যে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বেশিরভাগ বাসা বাড়িতে অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার করছে বৈধ গ্রাহকরা।
দেখা যায়, যেখানে-সেখানে গ্যাসের পাইপলাইন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিপদজনক ভাবে এ যেন দেখার কেউ নেই। গ্যাসের সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সাভার থানায় ৬টি ও আশুলিয়া থানায় ২২টি মামলা হলেও আসামীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না, অনেকেই আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে আবার অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য করছে। তথ্যমতে ১টি মামলায় প্রায় ৪৫ থেকে ৪৭ জন আসামি করা হয়েছে, সব মিলিয়ে ২৮টি মামলায় প্রায় ১৩ শতাধিক আসামি। এসব মামলায় কিছু ইউপি সদস্যসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা আসামী, এই গ্যাসের অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকায় জটিলতা বাড়ছে, এ যেন সরিষার মধ্যে ভূতের বসবাস। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এসব দালালদের কাছে এলাকাবাসী ও গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারী গ্রাহকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ না নিলেও বিল দিতে বাধ্য করা হয় তাদেরকে। তিতাস কোম্পানির কিছু অসাধু ব্যক্তির অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সরকারি সম্পদ গ্যাস হরিলুট হচ্ছে বলে সচেতন মহলের দাবী। বেশিরভাগ বাসা বাড়িতে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি, এই গ্যাস লাইনে নি¤œমানের পাইপ দেওয়ার কারণে অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, এতে শিশুসহ অনেকেইে আহত ও নিহতের ঘটনার শিকার হচ্ছেন, দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণে বোমা ফাঁটার মত বিকট শব্দ হয়।
এ বিষয়ে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছাঃ পান্না বেগম বলেন, আমি গ্যাসের দালালদের ৩বার ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছি, মাঝে মধ্যে আরও টাকা দাবি করেন তারা, এই চক্রের সাথে পুলিশও জড়িত আছে বলে তিনি জানান। পান্না বলেন, আমরা আশুলিয়ার অনেক বাড়ির মালিক বাহির থেকে আসা কিছু লোকজন এলাকাবাসী সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি, এ যেন দেখার কেউ নেই। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি গ্যাসের বৈধ সংযোগ দিতো তাহলে মানুষ আর সরকারি তিতাস গ্যাসের অবৈধভাবে সংযোগ কেউ ব্যবহার করতেন না। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও নতুন করে ধারাবাহিকভাবে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিচ্ছে, দালালরা নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
জানা গেছে, গত বছর আশুলিয়ার কাঠগড়ায় তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে হাজী আকবরের ১তলা ভবন ধসে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া মাগুড়ার নাজমুল হকের ছেলে দেড় বছরের শিশু তাছিম নিহত হয়। এ সময়ে নারী ও শিশুসহ আরও ৪ জন আহতের ঘটনা ঘটে। গত ৯ ও ১০ জুলাই ২০২০ইং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টাল গণমাধ্যমে দেখা যায়, আশুলিয়ার কাঠগড়া দূর্গাপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ বছরের ছেলেসহ এক পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছেন। গত ০৮/০৭/২০২০ইং এ ব্যাপারে নিহতের স্বজন আজিজুল বাদী হয়ে একজন ইউপি সদস্যসহ ৭জনের বিরুদ্ধে আশুরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসী জানায়, আশুলিয়ার কাঠগড়ায় এক স্থানে ১০বার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর আবার দেয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে তবুও পুলিশ প্রশাসন জড়িতদেরকে গ্রেফতার করছেন না।
উল্লেখ্য আশুলিয়ার কবিরপুর, জিরাবো, এদিকে নয়ারহাট, নবীনগর, পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল, বগাবাড়ি, ইউনিক, শিমুলতলা, ফকিরবাড়ী, জামগড়া, মোল্লাবাড়ী, ভাদাইল, পাবনারটেক, বাংলাবাজার, ইয়ারপুর, নরসিংহপুর, জিরাবো, ঘোষবাগ, পুরাতন আশুলিয়া, কাঠগড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ রয়েছে। গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে অনেক মানুষ আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে। আশুলিয়ার ইয়ারপুর এলাকার মোঃ সিরাজুল ইসলাম ( সিরাজ) জিরাবো এলাকার মোহাম্মাদ আলী মেম্বারসহ ২০-২৫ জন প্রভাবশালী দালাল চক্রের সদস্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এক একটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সংযোগ দেয়, এরপর টাকার জন্য দালালদের ইচ্ছামত বার বার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রতি বাড়ি থেকে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে দালালরা। পুরো এলাকা থেকে প্রতি মাসে প্রায় কোটি কোটি টাকা কালেকশন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হলেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় না। এ ছাড়া আশুলিয়ার কাঠগড়া একই স্থানে অবৈধভাবে ৮-১০ বার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় ও আবার যা তাই। গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নাটকীয়। এ যেন চোর পুলিশের খেলা করছে বলে অনেকেরই অভিমত।
বিশেষ করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রায় ২২টি খাতে দুর্নীতি হয় উল্লেখ করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিল্পা লের যেখানে-সেখানে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করায় সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানী এবং পর্যবেক্ষণমূলক এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন দুদকের কমিশনার ড. মোজ্জামেল হক খান। “প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দুদকের এই কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দুদকের এই প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”। দুদক কমিশনার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে দুর্নীতির জনশ্রুতি রয়েছে এমন ২৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ অপচয়ের দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছে কমিশন।
এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে তা বন্ধের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫টি প্রতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি টিমের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশনার আরও বলেন, এসব টিম অনুসন্ধান চালিয়ে দুর্নীতির উৎস দেখতে সঠিকভাবে তদন্ত করতে হবে। তিতাস গ্যাস সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমটি তাদের অনুসনন্ধানে তিতাসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বর্তমান কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে যারা সম্যক ধারণা রাখেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে, পরে তথ্য সংগ্রহ করেন, সেটা পর্যালোচনাও করেন। এ ছাড়া তিতাসের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ ভুক্তভোগী সেবা গ্রহীতাদের বক্তব্য ও পর্যালোচনা করেন টিম। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা ও অডিট প্রতিবেদনও পর্যালোচনার আওতায় আনে তারা। সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে আমাদের এই টিম তিতাসের দুর্নীতির উৎস ও ক্ষেত্র দেখতে হবে, এবং তা প্রতিরোধে সুপারিশমালা প্রতিবেদন আকারে কমিশনে দাখিল করেন।
মোজ্জামেল হক বলেন, তিতাসের এই প্রতিবেদনে ২২টি সম্ভাব্য দুর্নীতির উৎস প্রমান করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগ অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃসংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ দেয়া, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ দেওয়া, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটরে গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ দেওয়া সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশনের চেয়ে কম গ্যাস সরবরাহ করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছে করে ইভিসি (ইলেকট্রিনিক ভলিউম কারেক্টর) না বসানো। বিশেষ করে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের প্রতিবেদনে ১২ দফা সুপারিশ উল্লেখ করেছেটিম। কমিশনের এই প্রতিবেদন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সহজ হবে। এভাবে দুর্নীতি হওয়ার আগেই, তা প্রতিরোধ করা গেলে, মামলা করার প্রয়োজন পড়বে না। তিনি আরও বলেন, সরকার যে কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের যে ঘোষণা দিয়েছে, কমিশন সে ঘোষণা বাস্তবায়ন র্নীতি নিয়ন্ত্রণে বহুমাত্রিক কার্যক্রম সফল করছে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। এসময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীনসরুল হামিদ দুদকের এই কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দুদকের এই প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে দেখে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বমোননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই মন্ত্রণালয়ে তা কার্যকরভাবে অনুসরণ গ্যাসের কর্মকর্তারঅনিয়ম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ ব্যবস্থাপক (জোবিঅ) প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম জানান, সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাসের বৈধ গ্রাহক সংখ্যা ৫২ হাজার, শিল্প গ্রাহক সংখ্যা ১৫০০। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী ও দালালদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় ৬টি ও আশুলিয়া থানায় পৃথক ২২টি মামলা করেছেন, মোট ২৮টি মামলা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি দাবী করেন।
উক্ত ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ফাউজুল কবির জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, আর তিতাস কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, উক্ত ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ সংবাদ ধারাবাহিক ভাবে চলবে।

মোঃ সাইফুল ইসলাম হেলাল শেখ, বিশেষ প্রতিনিধি।।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD