সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
এড. সুজার মৃত্যুতে জাপার রাজনীতিতে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণীয় হবার নয়- রওশন এরশাদ।। কালিহাতীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নদীতে পড়ে ঘাটাইলের যুবক নিখোঁজ মধুপুরে আকাশী ফুলবাড়ী মোড় হতে রানিয়াদ ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্হা শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্দেশনায় মুন্সিগঞ্জে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। আশুলিয়ায় চার মাদক ব্যবসায়ী ও মিরপুরে ৩৭জুয়ারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব! নড়াইলে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্মাননাসহ সুসজ্জিত গাড়িতে করে বিদায় জানালো, এসপি প্রবীর কুমার রায় খুলনার পাইকগাছায় ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় স্মারকলিপি প্রদান প্রশাসনের মাইকিং অমান্য করে পাইকগাছার চাঁদখালীতে লকডাউনের মধ্যে গরুর হাট বসানোর অভিযোগ পাইকগাছায় ভাঙ্গা মাটির ঘরে তপন বিশ্বাসের মানবেতর জীবন যাপন পাইকগাছায় ৫ জুয়াড়ি আটক : থাানায় মামলা
বালুর অভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ, বিপাকে ঠিকাদাররা

বালুর অভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ, বিপাকে ঠিকাদাররা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃবালু উত্তোলকারীদের বালু তোলা বন্ধ থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের নির্মাণ কাজ। আর এসব কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে জেলার ঠিকাদার এবং নির্মাণাধীন বাসা বাড়ির মালিকেরা।

বালু নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে চরম নাটকীয়তা। বালু উত্তোলকারীদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে করা হচ্ছে জরিমানা। আবার রাতের অন্ধকারে কেউ কেউ বালু উত্তোলন করছে। বেড়ে গেছে ঘাট জমা ও পথের চাঁদাবাজি। বালুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় থমকে গেছে নির্মাণ কাজ।

ঠিকাদাররা নদী থেকে বা নদীর কিনারা থেকে বালু উত্তোলন করতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক জেলায় বালু মহাল নেই ঘোষণা দিয়ে জেলার বিভিন্ন নদী বা কিনার থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ ঘোষণা করেন।

এর আগে টাঙ্গণ নদীর দুটি বালু উত্তোলনের ঘাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দিনের বেলায় নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে। এতে করে রাতারাতি বালুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে ঠিকাদার এবং নির্মাণাধীন বাসা বাড়ির মালিকেরা পড়েছেন বিপাকে।

জেলায় কিছুদিন আগেও এক ট্রলি (১০০ সিএফটি) বালু বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকার মধ্যে। সেই বালু এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দরে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দরে।

কেন হঠাৎ করে বালুর দাম বাড়লো জানতে চাইলে লিমন নামে একজন ট্রলি ড্রাইভার জানান, এখন লুকিয়ে বালু আনতে হয়। ঘাট জমা ৫০০ টাকা, রাস্তায় চাঁদা দিতে হয় ৩০০ টাকা, সবমিলিয়ে খরচই হয় হাজার টাকার ওপরে। আগে এ খরচ ছিল মাত্র ২০০-৩০০ টাকা।

জেলার বিশিষ্ট ঠিকাদার ও তিন বারের জেলার শ্রেষ্ঠ করদাতা শওকত আলী সোহেল বলেন, ‘যেখানে বালুর অভাবে শুধু ঠাকুরগাঁও পৌরসভারই প্রায় ১৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। সেখানে বুঝতে হবে সব ধরনের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে একমাত্র বালুর অবাবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। রাতের বেলা আমরা দুয়েকটি ঘাটে অভিযান পরিচালনাও করেছি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে রাতের বেলা সবসময় সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমি একটি প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে পেশ করেছি। পীরগঞ্জ থেকে করা হয়েছে তিনটি বালু মহালের প্রস্তাবনা। এগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই ও ছাড়পত্র প্রাপ্তির পরই বালু মহাল ঘোষণা হতে পারে। আমি আরও দুটি বালু মহালের প্রস্তাবনাও পেশ করব বলে চেষ্টা করছি।’

বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু ঠাকুরগাঁওয়ে এই মুহূর্তে বালু মহাল নেই, সেজন্য পাশের জেলা দিনাজপুর অথবা পঞ্চগড় থেকে বালু এনে কাজ করা যেতে পারে। ‘

এদিকে, দিনাজপুর বা পঞ্চগড় জেলা থেকে বালু আনার কথা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলার কয়েকজন ঠিকাদার।

এক ব্যবসায়ী নেতা জানান, পাশের জেলা থেকে বালু আনতে গেলে এক ট্রলি বালুর দাম পড়বে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা, যা দিয়ে কোন ঠিকাদারের পক্ষেই কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবেনা। তাছাড়া বালু মহাল ঘোষণা দেয়ার আগে জেলা প্রশাসন, পিডাব্লিউডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, রোডস এন্ড হাইওয়েজ, ফায়ার সার্ভিসসহ ৬-৭টি বিভাগের কাছ থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। যা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈলে নদী বা অন্য জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায়ে অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

জেলার সচেতন মহল, শ্রমিক, ঠিকাদার সবার দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে ও ছাড়পত্র নিয়ে বালু মহাল ঘোষণা করে উপযুক্ত মূল্যে ইজারা দেয়া হোক।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলায় কোন বালু মহাল নেই। আগে দুটি বালু মহাল ছিল সেটা বাতিল হয়েছে। এখন কোন কোন জায়গা বালু মহাল ঘোষণা করা যায় তা জরিপ করার জন্য আমি নির্দেশনা দিয়েছি। কিছুটা সময় লাগলেও কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারি আমরা বালু মহাল ঘোষণা এবং ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করব।আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলছি।’

গৌতম চন্দ্র বর্মন
ঠাকুরগাঁও।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD