মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১:০৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
নড়াইলে মাসিক কল্যাণ সভায় সন্মাননা স্বীকৃতি স্বরূপ ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করলেন এসপি প্রবীর কুমার রায়। সুজানগর-চিনাখড়া সড়কের বেহাল দশা শাজাহানপুরে চার মাস পর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হলেন গৃহবধূ বাজারে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিকযুক্ত আম নেই কোনো প্রশাসনিক নজরদারি গাজীপুর মহানগরে ২২ নং ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং, মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত বাকেরগঞ্জ রঙ্গশ্রী ৬ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় সাধারন সদস্য প্রার্থী নাজমা’র ভ্যান গাড়ি মার্কার প্রচার-প্রচারণায় এলাকাবাসী। ক্ষেতলালে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীর টাকা ভূতুড়ে একাউন্টে জগন্নাথপুরে মাসুম হত্যার ঘটনায় কাউন্সিলর সাফরোজকে মামলায় অর্ন্তভূক্ত করা ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন রামখানা ইউপির সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয় আবু বক্কর সিদ্দিকের বেগমগঞ্জে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১
নাগরপুরে অপরিকল্পিত নদী খননে বসতভিটা-ফসলি জমির ভাঙ্গণ

নাগরপুরে অপরিকল্পিত নদী খননে বসতভিটা-ফসলি জমির ভাঙ্গণ

মোঃ আমজাদ হোসেন রতন , নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অপরিকল্পিতভাবে ধলেশ্বরী শাখার নোয়াই নদী খননের অভিযোগ উঠেছে। এবারের প্রবল বন্যার পর পানি নেমে যাওয়ার পরেই দেবে/ভেঙ্গে গেছে বাড়ির আঙিনাসহ বসতি ভূমি, ঝুলন্ত অবস্থায় আছে কাচা পাকা বসতবাড়ি। নদীর পার ভেঙ্গে প্রায় দের শতাধিক শতাংশ, গাছপালাসহ ফসলি জমি চলে গেছে নদী গর্ভে। শতাধিক পরিবারের চোখে মুখে হতাশার ছাপ লেগে গেছে, নতুন করে ভাঙ্গনে ফাটল দেখা দেওয়ায়। উপজেলার সদর, গয়হাটা, সহবতপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বিক্ষুব্ধ মানুষ নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে যাতায়াতের রাস্তা, মাদ্রাসা, মসজিদ, বসতভিটাসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীনের আশঙ্কা করছেন তারা। প্রকল্পের উদ্দেশ্যানুযায়ী বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী অবকাঠামো, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কৃষি-অকৃষি জমি, ফসলাদি, জনসাধারণের ঘরবাড়ী ইত্যাদি রক্ষা পাওয়ার কথা থাকলেও কোনটিই রক্ষা পাচ্ছে না। বরং ওই প্রকল্প অপরিকল্পিত ভাবে বাস্তবায়ন করায় অনেকেই বসতভিটা-ফসলি জমি হারাতে বসেছেন, অপরদিকে খননের সময়ে মানা হয়নি নকশা। তাদের আহাজারী যেন শেষ হচ্ছেই না। এ যেন খাল কেটে কুমির আনা হয়েছে বলে আক্ষেপ দুই পারের ভুক্তভোগীদের।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ধলেশ্বরীর হাজীর ব্রিজ বিলের পাড়ের পয়েন্ট থেকে শাখা নদীর পয়েন্ট বাবুপুর লাউহাটি পর্যন্ত ১৩.৭৫ কিলোমিটার নদী খননের কাজ শুরু করেছিল। ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ খনন কাজ করেছে ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খন্দকার শাহীন আহম্মেদ।

গত কয়েকদিন সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গেল বন্যার আগে ধলেশ্বরী নদীর চ্যানেল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার নদী ৫-৬টি ভেকু দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন শুরু করে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ওই নদী এলাকা থেকে মাটি খনন করে নদীতে পানি প্রবাহের জন্য চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এটি দিয়ে মূল নদীর সঙ্গে পানি প্রবাহের সংযোগ দেওয়া। কাজ শুরু হওয়ায় নদী পাড়ের মানুষ খুশি হলেও অপরিকল্পিতভাবে নদী খননে তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এভাবে খননে ক্ষতিগ্রস্ত হব সেটা আমরা না বুঝলেও তাদের বুঝা উচিৎ ছিল। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বাধা প্রদান করলে বিভিন্ন মামলার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেনি। কিন্তু এখন মাথা গুজার ভিটেবাড়িও চলে যাচ্ছে। ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে জোড় দাবি এলাকাবাসী ও নদী পারে মানুষের।

গয়হাটা ইউনিয়নের ঘিওরকোলের দিন মজুর জসিম উদ্দিন (৭০) বলেন, নদী খননে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে। প্রায় দুই ধরে তিল তিল গড়ে তোলা ২২ শতাংশ জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। নদী খননের পর বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে প্রায় ১২ শতাংশ বসতবাড়ির ভিটা নদীতে চলে গিয়েছে। ঝুলন্ত অবস্থায় ঘরটি টাকার অভাবে সরাতেও পারছি না। বাকিটুকুতেও ফাটল ধরেছে।

একই এলাকার রেফাজ উদ্দিন (৭২) বলেন, সরকারি কলেজের ৪র্থ শ্রেণীর চাকুরীর অবসরের টাকা দিয়ে পাকা করে ঘর নির্মাণ করেছিলাম বাকি জীবন দুই ছেলে সন্তান নিয়ে একটু সুখে দিন কাটাবো বলে। সুখ তো দুরের কথা মাথা গোজার ঠাইটুকু থাকবে কিনা জানি না। অপরিকল্পিত নদী খননে এবারের বন্যার পর প্রায় ১০ শতাংশ জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে সখের পাকা ঘরে ভাঙ্গন হানা দিয়েছে।

খনন এলাকায় কথা বলার সময় অনেকেই এগিয়ে আসেন। সাধারণ কৃষক শওকত হোসেন তালুকদার (৪৫) জানান, শতাংশ প্রতি দুই লক্ষ টাকা করে জমি কিনে বসবাস করছেন যুগ ধরে। অপরিকল্পিত নদী খননে তার গাছপালাসহ প্রায় ৭ শতাংশ জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে তিনি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নাগরপুর সদর ইউনিয়নের দুয়াজানি গ্রামের আঃ জব্বার আলী (৭০) (অবঃ, বিআইডব্লিউটিসি) অভিযোগ করে বলেন, অপরিকল্পিত নদী খননে ক্ষতিগ্রস্ত নিজেও এবং এ গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার নদীতে ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে। সচেতনমহল বাধা দিলেও কাজ হয়নি। বরং আরো বেশী করে খনন করেছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন ওই ব্যাক্তি সহ সকলেই।

গয়হাটা ঘিওরকোলের মহিলা ইউপি সদস্য শিরিন আক্তার বলেন, সরকারি নির্দেশনায় কেউ অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। কিন্তু দিন দিন যে হারে ক্ষতি হচ্ছে ভবিষ্যতে এ নদী ভাঙন থেকে নিজে রক্ষা পাব কি না তাও জানি না। অপরিকল্পিত নদী খননে অত্র ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ভাঙন হুমকির মুখে এবং প্রায় ১০০ শতাংশ ফসলি জমি গাছপালাসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে তিনিও সরকারের কাছে ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানে জোড় দাবি জানান এবং সংবাদ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে জানান, নদী পারবর্তী ক্ষতি গ্রস্থরা ত্রাণ সহযোগিতা নয় চাই ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধান।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ূন কবীর প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তা সহজে পুরণ হবার নয়। উপজেলায় ২৪৮টি গ্রামের মধ্যে, পাইকশা-মাইঝাইলসহ বেশ কয়েকটি পুরো গ্রাম বিভিন্ন জায়গায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটুর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন সর্বদাই সার্বিক সহযোগিতায় তাদের পাশে আছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে না পাওয়া গেলে ওই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রবিউল আওয়াল জানান, ওইসব নদী ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাবর গুরুত্বসহকারে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।#

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD