সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
এড. সুজার মৃত্যুতে জাপার রাজনীতিতে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণীয় হবার নয়- রওশন এরশাদ।। কালিহাতীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নদীতে পড়ে ঘাটাইলের যুবক নিখোঁজ মধুপুরে আকাশী ফুলবাড়ী মোড় হতে রানিয়াদ ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্হা শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্দেশনায় মুন্সিগঞ্জে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। আশুলিয়ায় চার মাদক ব্যবসায়ী ও মিরপুরে ৩৭জুয়ারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব! নড়াইলে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্মাননাসহ সুসজ্জিত গাড়িতে করে বিদায় জানালো, এসপি প্রবীর কুমার রায় খুলনার পাইকগাছায় ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় স্মারকলিপি প্রদান প্রশাসনের মাইকিং অমান্য করে পাইকগাছার চাঁদখালীতে লকডাউনের মধ্যে গরুর হাট বসানোর অভিযোগ পাইকগাছায় ভাঙ্গা মাটির ঘরে তপন বিশ্বাসের মানবেতর জীবন যাপন পাইকগাছায় ৫ জুয়াড়ি আটক : থাানায় মামলা
কে লিখবে উপজেলা সাংবাদিকদের গল্প?

কে লিখবে উপজেলা সাংবাদিকদের গল্প?

লিখেছেন- গৌতম চন্দ্র বর্মন।।
মা বলছে ছেলেকে কিরে খোকা এবারে পুজায় আমাকে শাড়ি কিনে দিবেতো সারাদিন ক্যামেরা আর একটা মাইক্রোফোন নিয়ে হোন্ডা  দন্ড হয়ে ঘুরে বেড়াস রাতে ফিরে আমাকেতো টাকা দিস না বোমাকে টাকা রাখতে দিসতো সামনেতো পুজা কিছুইতো বলিস না
বুঝতে পারছিনা? কি করবো বল মা, এটা যে আমার কর্তব্য সময় মত খবর প্রকাশ না করতে পারলে চলবে কি করে। আমরা যে এ কাজের জন্য সামান্য কিছু বেতন পাই আবার কেউ পায়না মা।আর তুমি পুজায় শাড়ি চাচ্ছো তাঁতে আমার দম বন্ধ হয়ে আসচ্ছে। শুনছিলাম মা এবার নাকি সাংবাদিকরা করোনার কারনে প্রোনোদনা পাবে,আমিও পাবো মনে করেছিলাম আর সেটাকা দিয়ে তোমাকে ভাল একটা শাড়ি কিনে দিব। কিন্তু সে টাকা আমি পেলাম না কারন হয়ে দাড়ালো আমি যে উপজেলার
আর কে বা লিখবে আমাদের এ কথার গল্প মা।স্ত্রী রাখো তোমার এসব কথা আগের রাতে নিউজ কভার করতে গিয়ে সারারাত ফিরলে  না, ফোনটাও তোমার বন্ধ। তোমার চিন্তায় সারারাত আমিন না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম আমাদের অপেক্ষার বেতন কত পেলাম তাহলে। বেবী টাও সারারাত বাবা বাবা বলে কাঁদছিল, পাবেই বা কত বেতন। শোন আমরা রিপোর্টার  এটা নিয়ে ঠিকমতো অনেক  অনেক অভিজ্ঞতার ব্যাপার বুক ফুলিয়ে বলতে তো পারো তোমার স্বামী একজন সাংবাদিক। আরো দশটা পেশার মত আমাদের টাও দেশের জন্য খুবই দরকার। আমরা খবর সংগ্রহ করে প্রিন্ট ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় প্রকাশ করি বলেই তো তোমরা ঘরে বসে সব কিছু জানতে পারো। এখান থেকে অনেক দূরের এখন কি হচ্ছে, মা নারে বাবা সেদিন তোর ছেলেকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম নতুন জামার জন্য খুব বায়না ধরেছে,আর তুমি যে টাকা দাও তাতেতো জামা কিনে দিলে এমাস লবন দিয়ে খেয়ে থাকতে হবে।তাই আমি কোন মতে বুজিয়ে নিয়ে আসচ্ছি। তারপর তুমি
সারাদিন না খেয়ে থাকলে আমি দুশ্চিন্তায় থাকি এই বুঝি তোর একটা কিছু হয়ে গেল এর আগের বছর কি একটা ঝামেলায় জড়িয়ে পায়ের একটা চোট নিয়ে বাড়ি ফিরলি, এই রক্তের দাম কি কেউ তোমাকে দিয়েছে ।ছেলে এত চিন্তা করো না মা। তুমি আর তোমার নাতি  এরকম করলে তোমার বৌমা তো ছেলেমানুষি করবেই ওদেরকে তো তুমি ভরসা দিবে মা,ছেলে আচ্ছা ঠিক আছে? সাবধানে থেকো মা এখন যে করোনার  উপদ্র তাতে বাড়ি থেকে একদম বেরিও না। এখন আমি আসি মা,এই তোমরা খেয়ে নিও স্ত্রী যাবার সময় ব্যাগটা কাধে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিন বছরের ছেলেটা  হাতের আঙ্গুল ধরে বলল আমার জন্য কি আনবে বাবা, আর কখন ফিরবে তুমি, জানো বাবা তোমার যখন আসতে দেরি হয় তখন মা আর দিদি খুব চিন্তা করে আচ্ছা বাবা খুব তাড়াতাড়ি আসবো ।এখন আসি একথা বলে বেরিয়ে গেল,এরপর শুরু হলো জেলার সাংবাদিকদের মত উপজেলার সাংবাদিকদের পাঠকের খবর জোগাড়ের সূচনা, এভাবেই প্রতিদিন তার লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে ওদের দেখা হয় কতশত খবর সংগ্রহ নিয়ে আসে তারা, আজ কে খুন হলো, কে মাঝ রাস্তায় পড়ে মারা গেল, কার নামের পাশে উপাধি যুক্ত হল, কোন শিশুটা রাস্তার পাশে জলসায় থেকে উদ্ধার হল। এতসব খবর ওরা আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে। আবার খবর মন মত না হলে শুনতে হয় অফিস থেকে নানা কথা। তখনো হায়ার লেভেল থেকে শুনতে হয় অনেক কথা। কিছু ভুল খবর প্রকাশিত হলে জনগণের রেশে পড়তে হয় সাংবাদিকদের। খরা বন্যা বজ্রপাতে ওদের থামতে মানা, কারণ ওরা থেমে গেলে দেশ থেমে যাবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে কে কখন কোথাও বিশাল কোন জনসভাতে উপরতলার মানুষের সামান্য কথা তুলে ধরবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়তে হয় তাদের।তবুও হয়তো অনেক সময় দেখা মিলে না উপর তলার লোকদের সাথে। আসলে ওদের নিজেদের কাজটাই ওরকম। সবার জন্য সমানভাবে খবর দেয়ার চেষ্টা করলেও সামান্যতম ভুলভ্রান্তি তে ওদের নিয়ে চুল ছেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়, সঠিক খবর সঠিক সময় পৌঁছে দেয়ার জন্য বনে জঙ্গলে বাজারে শহরে নদীতে যেখানে সেখানে বিধি নিষেধ শর্তেও ওদের চলতে হয়। দুই পক্ষের মাঝখানে ও কখনো কখনো মাথা ফাটিয়ে  আসতে হয় তাদের। সাংবাদিক প্রতি নিহত হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে আপডেট জোগাড় করে আমাদের জন্য আজ কতজন করোনায় পেশেন্ট বাড়লো আমরা বাড়িতে বসে সব পেয়ে যাই। তার জন্য ওরা প্রাণপর লড়াই করে ওরা মৃত্যু জানের পিছু পিছু ছুটতে থাকে শেষ দৃশ্যটা কাবার দেওয়ার জন্য ওরা সাংবাদিক রোবট না কিন্তু, তার পরেও ওদের নিয়ে মজা করে এবং ওদের কে নিয়ে অনেকে হাসেন মজা করেন। একবার ওদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখুন ওদের জীবনের মূল্য কত টাকা কত টাকার বিনিময় নির্ধারণ করা হচ্ছে, ওরা নিজেও জানেনা আজ বেরিয়ে গেলেও আগামী কাল আদৌ ফিরবে কিনা, আপনার বাড়ীর ছেলেরা যতটা ইনভাইট গাল করে ওরাও কিন্তু ততটাই পরিশ্রম করছে ওই জায়গায় দাঁড় করার জন্য ওদেরকে অনেক খরকুঠো কুড়াতে হয়েছে সাংবাদিকের শুধু বেতন ভক্ত কর্মচারী না ভেবে  দেখুন ওদের কাজকে একটু সম্মান দিন। ওরা পেটের দায়ে এসব কাজ করছে তা নয় অনেক সাংবাদিক বেতন পর্যন্ত পায়না। ওদের এটা একটা ভালোবাসার জায়গা অনেক পরিশ্রম করে তবেই এই জায়গা অর্জন করেছে। আমরা তো বাড়িতে বসে এসব খবর দেখি আর ওরা মৌমাছির মতো খবর সংগ্রহ করে আনেও  আমরা সব সময় সবকিছু সবার আগে জানাতে পেরেও ।করোনার নামে প্রেরিত প্রেরণা উপজেলা সংবাদকর্মীরা পেলনা।

গৌতম চন্দ্র বর্মন
ঠাকুরগাঁও।।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD