শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
টরকী বন্দরের ডাকাতির নিউজ করায় সাংবাদিকের উপর হামলা আশুলিয়া থানা যুবলীগের শীর্ষ পদ চায় কে এই রাজু দেওয়ান? রক্তাক্ত ১৫ আগষ্টে ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান ময়মনসিংহে রওশন এরশাদের পক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাপার জাতীয় শোক দিবস পালন।। বানারীপাড়ায় জাতীয় শোক দিবস পালন ও হত দরিদ্রদের মাঝে চেক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাথে বাবুলের সাংগঠনিক বিষয়ে পরামর্শ ও আলোচনা বঙ্গমাতার জন্মদিনে বানারীপাড়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ ময়মনসিংহের অষ্টধার ইউনিয়নে গণটিকার উদ্ভোধন করলেন চেয়ারম্যান তারেক হাসান মুক্তা।। তারাকান্দায় এডিসি ও ইউএনও’র গণটিকা কার্যক্রম পরিদর্শন।। সিরাজদিখানে গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কালের স্বাক্ষী নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী

কালের স্বাক্ষী নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী

এম এস সাগর, কুড়িগ্রাম:

কালের স্বাক্ষী কুড়িগ্রামের নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী। অবিভক্ত ভারত বর্ষে অনেক আগে নাওডাঙ্গা পরগনার জমিদার বাহাদুর শ্রী শ্রী শ্রীল শ্রী যুক্ত বাবু প্রমদা রঞ্জন বক্সী নির্মাণ করে। শাসন আমলে পরগণার অধিন বিদ্যাবাগিশ, শিমুলবাড়ী, তালুক শিমুলবাড়ী, রসুন শিমুলবাড়ী ও কবির মামুদ প্রভৃতি জায়গায় শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত ছিল। পাঙ্গা এলাকায় এ জমিদারের আর একটি জোত ছিল। এটির দেখাশুনাসহ পূর্ন পরিচালনার ভার ন্যস্ত ছিল শ্রী
যুক্ত বাবু শীব প্রসাদ বক্সীর উপর।

কুমার বাহাদুর বীরেশ্বর প্রসাদ বক্সী, বিশ্বেস্বর প্রসাদ বক্সী ও
বিপুলেশ্বর প্রসাদ বক্সী এ তিনজন জমিদার নন্দন। প্রথম পুত্র বীরেশ্বর প্রসাদ বক্সী পাশ্চাত্যে পড়ালেখা করে বিচারক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তৃতীয় পুত্র বিপুলেশ্বর প্রসাদ বক্সী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। দ্বিতীয় পুত্র বিশ্বেস্বর প্রসাদ বক্সীর হাতে জমিদারী ভার ন্যস্ত করে জমিদার বাহাদুর অবসর নেন। কথিত আছে পরবর্তী জমিদার জমিদারী ভার গ্রহণ করার আগে তৎকালীন সময়ে পর পর তিন বার প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন।তার পিতা জমিদার প্রমদা রঞ্জন বক্সী তার পুত্রকে বলেন, তোমার ভাগ্য
খারাপ। লেখাপড়া তোমাকে দিয়ে আর হবে না। অনেক ভাগ্যগুণে তুমি আমার সন্তান হিসাবে জন্ম নিয়েছ। বাকিরা যেহেতু পড়ালেখা শিখে অন্য কিছু হতে চায় সেহেতু তোমাকেই আমি আমার জমিদারী ভার দিতে চাই। পরে তাকে এ দায়িত্ব অর্পন করা
হয়। সে আমলে সেখানে তিনি একটি মাইনর স্কুল গড়ে দেন। সেটি এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশে গড়ে উঠেছে একটি স্কুল এন্ড কলেজ। শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতির প্রতি জমিদার বাহাদুর বিশ্বেস্বর প্রসাদ বক্সী ছিলেন সমান অনুরাগী। তার ইচ্ছায় সে সময় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের পূর্ণ জন্ম তিথি প্রতি দোল পূর্ণিমায় বাড়ীর সামনে বিস্তির্ন ফাকা মাঠে দোলের মেলা বসত। বিভিন্ন এলাকা থেকে দোল সওয়ারীরা বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে সিংহাসন নিয়ে এই দোলের মেলায় অংশ গ্রহণ করত। যা এখনও বর্তমান।

প্রথা অনুযায়ী সব কিছুই চলছিল যথানিয়মে। ১৩০৪ সনের ভূমিকম্পের পরে অন্য দুই ভাই কুচবিহার রাজ্যে স্থায়ী বসবাসের জন্য একটি বাড়ি কেনেন। তারা অনেক অনুনয় বিনয় করে তাদের পিতাকে সেখানে নিয়ে যান। পরবর্তীতে কোলকাতায় একটি
বাড়ি কিনে সেখানে তারা স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। সেই বাড়িতে তাদের পিতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শুধু জমিদারী নিয়ে পড়েছিলেন জমিদার বাহাদুর।জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সব কিছু ছেড়ে সেখানে চলে যান। তবে সর্বশেষ চল্লিশ সনের রেকর্ড তার নামেই হয়। জমিদার বাড়ির গোমস্থা গঙ্গাধর
বর্ম্মন এর নাতি রমেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, এসব কথা। তিনি একমাত্র কালের স্বাক্ষী। তিনি বলেন, তার ঠাকুরদার নিকট তিনি শুনেছিলেন এসব কথা।তথ্যানুযায়ী তার পিতার মৃত্যুর পর জমিদার বিশ্বেস্বর প্রসাদ বক্সী ও তার বংশধররা শ্রদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষে সর্বশেষ এসেছিলেন নিজের বাড়িটাকে শেষ দেখা দেখতে। সেই শেষ। আর কেউ কখনও এ পথ মাড়ায় নি। ব্রিটিশ আমল, তারপর ভারত উপমহাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাকিস্থান। অতঃপর
স্বাধীন বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারত সীমান্ত ঘেষা ফুলবাড়ী উপজেলায় ক্ষয়িষ্ণু অবয়ব নিয়ে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি। জমিদার,জমিদারী শাসন, প্রজা, গোমস্থা বিহীন সেটি এখন অরক্ষিত। ইট, চুন, সুড়কির নিপুন গাথুনির বিল্ডিংগুলো অসাধু ব্যক্তিরা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। পশ্চিম পাশের একটা দোতালা বিল্ডিং তারা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। অবশিষ্ট আছে
সামনের মুল বিল্ডিং ও ভিতরের একটা ছোট বিল্ডিং। অসাধু ব্যক্তিরা সেখান থেকে বীম ও অনেক ইট খুলে নিয়ে গেছে। এগুলোকে আশ্রয় করে বেড়ে উঠছে অপ্রয়োজনীয় কিছু উদ্ভিদ। জমিদার চলে যাওয়ার পর মুহুরি হরিবালা সরকার কিছুটা লুটপাট করলেও বর্তমানে জমিদার বাড়ী সহ প্রায় ৯ একর জমি অবৈধ দখল করে আছেন। সব মিলিয়ে জমিদার বাড়ীর ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD