রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে সমঝোতায় সুবিধা নিলো ঠিকাদার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার কোটি টাকার বালু পানির দরে বিক্রি গৌরনদীতে চার শত লোকের হাতে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দিলেন জেলা পরিষদের সদস্য হারুন হাওলাদার কেশবপুরে আরও এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন স্বপ্ন মৎস্য প্রকল্পের মৎস্যজীবিদের মাথায় হাত নড়াইলে লকডাউন কার্য্যকর করতে অভিযান চালিয়েছে এসপি প্রবীর কুমার রায় গৃহনির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এডিসি মারুফুল আলম পাইকগাছায় করোনা প্রতিরাধ বিষয়ক পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অপরাধে আটক-১ বিএফএ-এর পক্ষ থেকে পাবনা জেলা প্রশাসককে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান ফুলবাড়িয়ায় কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ও তার বাবাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলার অভিযোগ
অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে বিপাকে পঞ্চগড়ের মাসুদ

অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে বিপাকে পঞ্চগড়ের মাসুদ

মো. বাবুল হোসেন পঞ্চগড়:
২৮ বছর বয়সি যুবক মাসুদ রানা। স্নাতক পাশ করেও সমাজ ও পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িছেন তিনি। দেহের অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে রয়েছেন বিপাকেও। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুকছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এই মানুষটি ১৪৮ কেজি ওজনের দেহ নিয়ে ঠিকমত হাঁটা-চলাও করতে পারেননা। দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম মাসুদ এখন অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
মাসুদ রানার বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের কেরামতপাড়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার কৃষক আইনুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, অস্বাভাবিক দেহ আর নানান প্রতিকূলতা পেরিয়েও মাসুদ রানা স্নাতক পাশ করেছেন। কিন্তু কোথাও যোগ্যতার প্রয়োগ করতে পারছেননা। কয়েকবার চাকরির ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণ করলেও শরীর অতিরিক্ত মোটা দেখে তাকে আর কেউ কাজে নেইনি। এদিকে, বিয়ের বয়সও পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু মোটা দেহের কারণে হচ্ছেনা।
পরিবারের লোকজন জানান, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মাসুদ রানার ওজন ছিলো ৬২ কেজি। যতই বয়স বেড়েছে ততই তার শরীরের ওজন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনও চিকিৎসাই কাজে আসেনি।
তারা আরও জানান, কৃষিতেই চলে তাদের পরিবার। বয়সের ভাড়ে বাবা আইনুল হকও ধীরে ধীরে বার্ধ্যক্যে পরিণত হচ্ছেন। অথচ মোটা দেহের কারণে মাসুদ রানা কোনও কাজেই বাবাকে সাহায্য করতে পারছে না।
মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণি থেকে তার শরীরের ওজন বাড়তে থাকে। তবে তার পরিবার সে সময় ভেবেছিল এমনিতেই ওজন কমে যাবে। অষ্টম শ্রেণিতে যখন তার শরীর অস্বাভাবিক হয়েছে, তখন চিকিৎসা নিতে শুরু করে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, এমনকি ক্লাসে যেতেও বিব্রত হয়েছিল সব সময়।
মাসুদ রানা জানান, যে বেঞ্চে সে বসতো সেখানে কোনও বন্ধুই তার পাশে বসেনি। সেজন্য স্কুলে মাঠের একপাশে বসে থাকলেও সেখানেও তাকে দেখে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল সহপাঠীরা। সেজন্য বেশিরভাগ সময় স্কুলে উপস্থিত ছিলনা। সে সময় ১০৯ কেজি ওজন নিয়ে এভাবেই ২০০৮ সালে সেকেন্ডারি পাশের পর পড়ালেখাতে মন বসেনি। মাঝখানে দুই বছর পড়াশুনা থেকে বিরতি রেখেছিল নিজেকে। সে সময় হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. লায়েক আলী খানের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়েছিল বেশ কিছু দিন। তবে চিকিৎসায় তার শরীরের ওজন কমেনি। তবুও প্রবল ইচ্ছা নিয়ে আবারও পড়াশুনা শুরু করে। পরে ২০১২ সালে বোদা পাথরাজ কলেজ থেকে ১২৮ কেজি ওজনের শরীর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে।
মাসুদ রানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একদিকে আমার পরিবার আমাকে নিয়ে কষ্টে আছে। অপরদিকে চিকিৎসাতেও কাজ হচ্ছে না, কিন্তু ডাক্তারদের কাছ থেকে আমি শুনেছি বিদেশে এর চিকিৎসা রয়েছে। তবে আমার পরিবারের সামর্থ্য নেই বিদেশে চিকিৎসা করানোর।
হৃদরোগ ও হরমোন বিশেষজ্ঞদের কাছে রংপুরে এবং ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছি। হাঁটাচলা শুরু করলেই পায়ের হাঁটুতে অতিরিক্ত ব্যথা হয়। এজন্য হাঁটতেও পারছি না। আমার পোশাক পাওয়া যায় না। কোন সুন্দর পোশাক পড়তে পারি না মোটা শরীরের কারণে। ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য সহকারি পদে চাকরিতে আবেদনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি। এখন আমি পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। স্নাতক পাস করেও আমি অসহায়।

মো. বাবুল হোসেন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD