সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
এড. সুজার মৃত্যুতে জাপার রাজনীতিতে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণীয় হবার নয়- রওশন এরশাদ।। কালিহাতীতে পিকনিকের নৌকা থেকে নদীতে পড়ে ঘাটাইলের যুবক নিখোঁজ মধুপুরে আকাশী ফুলবাড়ী মোড় হতে রানিয়াদ ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্হা শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্দেশনায় মুন্সিগঞ্জে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। আশুলিয়ায় চার মাদক ব্যবসায়ী ও মিরপুরে ৩৭জুয়ারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব! নড়াইলে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্মাননাসহ সুসজ্জিত গাড়িতে করে বিদায় জানালো, এসপি প্রবীর কুমার রায় খুলনার পাইকগাছায় ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় স্মারকলিপি প্রদান প্রশাসনের মাইকিং অমান্য করে পাইকগাছার চাঁদখালীতে লকডাউনের মধ্যে গরুর হাট বসানোর অভিযোগ পাইকগাছায় ভাঙ্গা মাটির ঘরে তপন বিশ্বাসের মানবেতর জীবন যাপন পাইকগাছায় ৫ জুয়াড়ি আটক : থাানায় মামলা
রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা বড়মামা ছিলেন আমার বললেন. মেয়র প্রার্থী পল্লব

রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা বড়মামা ছিলেন আমার বললেন. মেয়র প্রার্থী পল্লব

মো.বাবুল হোসেন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম পল্লব যা বললেন
আমার পরম শ্রদ্ধেয় বড় মামা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্নেহধন্য সহযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাবেক পার্লামেন্ট বোর্ড ও জাতীয় পরিষদ সদস্য এডভোকেট আমজাদ হোসেন। মামার সাথে পঞ্চগড়ের সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম এডভোকেট এর গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিলো। এডভােকেট আমজাদ হােসেন ১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারী নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা এস এম হেফাজ উদ্দিন এবং মাতা মোচ্ছাম্মত আজিজা খাতুন। আমজাদ হোসেন নিজগ্রাম ভোঁপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর নওগাঁ শহরে হাই মাদ্রাসা থেকে ১৯৪৯ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কিছুদিন রাজশাহী পড়াশুনা করে বাবার কর্মস্থল পাবনায় চলে আসেন। বাবা এস এম হেফাজ উদ্দিন পাবনা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকে চাকুরী করতেন। আমজাদ হোসেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৫২ সালে আইএ পাশ করেন। ১৯৫৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষা দিয়ে নবম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৮ সালে আইনজীবী হিসেবে পাবনা জজ আদালতে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি পাবনা সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি হলেন একমাত্র নেতা যিনি কখনো দলের কোন গ্রুপিং এ অংশ নিতেন না। আওয়ামী লীগ যেখানে উনি থাকতেন সেখানে। উনার নীতি ছিল আওয়ামী লীগ।আর নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এর বাইরে আর কিছু উনি ভাবতেননা। তাঁর স্ত্রী অধ্যাপিকা জান্নাতুল ফেরদৌস (আমার শ্রদ্ধেয় বড় মামী) ১৯৯৬ সালে পাবনা-সিরাজগঞ্জের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন তিনি জেল জুলুম ও পাকিস্তান সরকারের অত্যাচারের শিকার হন। সকল আন্দোলন, সংগ্রামে তিনি শহিদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, আব্দুর রব বগা মিয়া, শেখ হাকিমুদ্দীনের সাথে অংশগ্রহণ করেন। এডভোকেট আমজাদ হোসেন ১৯৫৩ সালে পাবনা স্টেডিয়ামে মুসলিম লীগের সম্মেলন বানচাল আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রচারনা, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৭ সালে ভুট্টা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত অনেকবার কারাগারে যেতে হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রায় আট বছরের বেশি সময় জেলখানায় বন্দী ছিলেন।
এডভোকেট আমজাদ হোসেন তাঁর জীবনে দুটি জিনিষকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। এক পাবনার মাটি এবং দুই আওয়ামী লীগের রাজনীতি। সে শত প্রলোভনে পাবনা ত্যাগ করে নাই। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু তাঁকে নওগাঁর আত্রাই থেকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। এই বিষয়ে তাঁর ভাই আবদুল জলিল, প্রথম রাজনৈতিক গুরু ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী জাতীয় নেতা এইচ এম কামরুজ্জামান চেয়েছিলেন আমজাদ হোসেন এমপি হোক। উনাদের অনুরোধ বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করে বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, আমি নওগাঁর মানুষের নেতা হতে চাইনা। আমি পাবনার মানুষের কর্মী হয়ে থাকতে চাই। বঙ্গবন্ধু একথা শুনে খুব আবেগ আপ্লুত হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আমজাদ হোসেনকে কি পরিমাণ ভালবাসতেন তা কাছের মানুষেরা জানতেন। ৫৪ সালের যুক্তফন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আমজাদ হোসেনকে নিয়ে দেশের বহু জেলায় সফরসঙ্গী করেছেন। বড় বড় সমাবেশে আমজাদ হোসেনকে দিয়ে গান গাওয়াতেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে আদর করে আমজেদ বলে ডাকতেন।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বঙ্গবন্ধু পাবনায় আসেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করার অপরাধে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সহ ১১ জন শীর্ষ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়। দলীয় প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট আমজাদ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। আহতবস্থায় হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় এডভোকেট আমজাদ হোসেন এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলে তিনি মোশতাক সরকারের সাথে যোগদান না করার অপরাধে তাঁকে জেলে যেতে হয়। এডভোকেট আমজাদ হোসেন স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ২০১৫ সালের ২২ মার্চ এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও পরলৌকিক জীবনের শান্তি কামনা করছি। আমার প্রতিটি মিছিলে, সংগ্রামে, জনকল্যানে তিনি চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবেন।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.net কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD